অনলাইন এপ্লিকেশন নিয়ে সবকিছু

GRE, IELTS/TOEFL পরীক্ষা শেষ? ভার্সিটি পছন্দ করা শেষ? এখন পালা নিজের প্রোফাইলমাফিক ভার্সিটিতে এপ্লাই করার? তাহলে এই পোস্টটি আপনারই জন্য। এখানে এপ্লিকেশন পূরণ করার সময়কার বেশ কিছু পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখন যেহেতু থাকেন বাংলাদেশে, পৃথিবীর উল্টো দিকে গিয়ে হাতে হাতে এপ্লিকেশন পূরণ করে দিয়ে আসা তো সম্ভব না। তাই, জমা দিতে হবে অনলাইনেই। আমেরিকার প্রায় প্রত্যেক ভার্সিটিরই অনলাইন এপ্লিকেশনের সিস্টেম থাকে। যেখানে নিজের প্রোফাইল খুলে অনেক রকম তথ্য দিতে হয়। আসুন দেখি, কী কী তথ্য!

ব্যক্তিগত তথ্য

আপনার পুরো নাম, বাসার ঠিকানা বা mailing address (যেখানে চিঠি পাঠালে আপনি পাবেন), স্থায়ী ঠিকানা, ফোন নাম্বার, ইমেইল আইডি দিতে হবে। প্রথম পেইজটা সাধারণত এটা দিয়েই তৈরি হয়।

একাডেমিক তথ্য

আপনি এখন একাডেমিক জীবনের কোন অধ্যায়ে আছেন, পূর্বে কোন কোন ভার্সিটিতে অধ্যয়ন করেছেন, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ ফিরিস্তি দিতে হবে। যেমন, ভার্সিটির নাম, কোন সাল থেকে কত সাল, সিজিপিএ কত ছিলো, এসব। মাঝে মাঝে শেষ দুই বছরের সিজিপিএ আলাদা করে জানতে চায়, কারণ এগুলো নির্দেশ করে আপনি আসলে কতটুকু সিরিয়াস হয়েছিলেন পড়াশোনার প্রতি সেটার দিকে। এখানে উল্লেখ্য, ওরা যখন বলবে “কলেজ”, তখন বুঝবেন আপনার “বিশ্ববিদ্যালয়”। আর ওরা যখন বলবে “হাই স্কুল”, তখন বুঝবেন আপনার কলেজ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আপনার কলেজ ইনফর্মেশন লাগবেনা।

ব্যক্তিগত তথ্য আর একাডেমিক তথ্য মিলিয়ে পরবর্তীতে এপ্লিকেশনের কোনো একটা পেইজে একটা ডিটেইল্ড CV আপলোড করতে হবে।

মার্কশিট/ট্রান্সক্রিপ্ট সংক্রান্ত তথ্য

এপ্লিকেশনে মার্কশিট এবং ট্রান্সক্রিপ্ট – দুটোই গ্রহণযোগ্য কিনা সেটা “UPLOAD CREDENTIALS HERE” সেকশনে লেখা থাকে। যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তবে মার্কশিটের পিডিএফ কপি আপলোড করতে পারেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ট্রান্সক্রিপ্ট ছাড়া আর কিছুর অনুমোদন দেবেনা। আর মার্কশিট বা ট্রান্সক্রিপ্ট, যেটারই স্ক্যানড কপি আপলোড করুন না কেন, এগুলোর অরিজিনাল কপি কুরিয়ারে করে পাঠাতেই হবে। আরেকটা জিনিস জেনে রাখা দরকার – সিভি, মার্কশিট, সার্টিফিকেট, স্টেটমেন্ট অফ পারপাস, IELTS রেজাল্ট – যাই আপলোড করুন না কেন, পিডিএফ ফরম্যাটে আপলোড করাই ভালো। আর যদি evaluated transcript দিতে বলে, তাহলে WES transcript evaluation এর নোট দেখে নিন।

অনেক সময় কতো সাইজের (MB) ফাইল আপলোড করতে হবে, সেটা দেওয়া থাকে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে অনার্স চার বছরের মার্কশিট একত্রে যোগ করে একটা ফাইল বানিয়ে দিতে বলে। খেয়াল রাখবেন, এটা করতে গিয়ে যেন ওদের সাজেস্ট করা সাইজের ভেতরেই থাকে। যদি কলেজ/ভার্সিটি প্রদত্ত মার্কশিট বা ট্রান্সক্রিপ্ট রঙিন কাগজের হয়, তবে সেগুলো স্ক্যান করার সময় সাদা রঙের করে নেওয়াই ভালো। এতে পিডিএফ স্পষ্ট আসবে।

কাঙ্ক্ষিত বিষয় সম্পর্কিত তথ্য

কোন ডিপার্টমেন্টে পড়তে চান, সেটা সিলেক্ট করতে হবে। কোন সেমিস্টার থেকে শুরু করতে চান, সেটাও সিলেক্ট করতে হবে এই পেইজে। কখনো কখনো কোনো স্পেসিফিক প্রফেসরের সাথে কথা হয়েছে কিনা জানতে চায়। যদি কনফিডেন্ট থাকেন, তাহলে তার নাম লিখে দিন।

GRE এবং TOEFL/IELTS সংক্রান্ত তথ্য

GRE আর TOEFL স্কোর তো সরাসরি ETS থেকে ওদের কাছে চলে যাবে। তবুও এখানে ওরা আপনার কাছ থেকে স্কোর জানতে চাইবে। সুন্দর করে সকল ঘর পূরণ করে দেবেন। এই সেকশনে এতো পেয়েছি, আর ঐ সেকশনে অতো! আপনি ets.org থেকে GRE স্কোর ভার্সিটিতে পাঠানোর জন্য টাকা জমা দেয়ার পর, ETS অফিস থেকে সেই স্কোর নির্দিষ্ট ভার্সিটিতে যেতে প্রায় ৩/৪ সপ্তাহ লেগে যায়। তাই ডেডলাইনের দেড়/দুইমাস আগেই পাঠিয়ে দিন। যদি কোনো কারণে ফর্মে ডিপার্টমেন্টাল কোড না লিখে থাকেন, তাহলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কারণ গ্র্যাজুয়েট স্কুলে আপনার স্কোর পৌঁছানোর পর সেটা যে কোনো ডিপার্টমেন্ট এক্সেস করতে পারবে।

ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে সাধারণত দুইভাবে IELTS স্কোর পাঠানো যায় – DHL এবং Normal Post এ। DHL-এ পোস্ট করতে প্রতি ভার্সিটির জন্য ৩০০০/- এবং সাধারণ পোস্টে ৫০০/- লাগে। তবে উনারা সাবধান করে দেন এই বলে, সাধারণ পোস্টে পাঠানো প্যাকেজ মিসিং হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া এটি ট্র্যাক করারও কোন উপায় নেই।

অনেক সময় ভার্সিটি ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে সরাসরি IELTS স্কোরের অফিসিয়াল হার্ডকপি পাঠাতে না বলে শুধুমাত্র আপলোড করতে বলতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার নিজের জন্য সংগৃহীত কপিটি স্ক্যান করে পিডিএফ আকারে আপলোড করলেই হবে।

রেফারীদের নাম/ঠিকানা

যখন রেফারীর নাম/তথ্য লিখতে যাবেন, তখন আপনাকে প্রশ্ন করা হবে রেকোমেন্ডেশন লেটার দেখার অধিকার waive করতে চান কিনা। তখন YES ক্লিক করতে হয়। কারণটা এরকম – অধিকার ছেড়ে দেওয়ার অর্থ হলো, শিক্ষক আপনার নামে যা লিখেছেন সে বিষয়ে আপনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। ঐ লেটার দেখার কোনো প্রয়োজন নেই। তাছাড়া লেটার দেখতে চাওয়া বেশ অভদ্রতা বলেও গণ্য করা হয়। এই অংশে একটা খালি ঘর থাকে যেখানে আপনি টিচারকে লেটারের জন্য রিমাইন্ডার দেওয়া নিয়ে কিছু লিখতে পারেন। যেমন, এপ্লিকেশনের ডেডলাইন জানিয়ে রিমাইন্ডার দেওয়া যায়।

Financial Document/Medical Certificate

অনেক ভার্সিটিই এপ্লিকেশন পূরণের সময় অন্তত এক বছরের খরচের নিশ্চয়তার প্রমাণ চায়। যারা সেলফ ফান্ডে যাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি সমস্যা নয়। কিন্তু যারা ভার্সিটির ফান্ডের উপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এটা বিশাল প্যাঁড়া। সেক্ষেত্রে আপনি সরাসরি ডিপার্টমেন্টে যোগাযোগ করতে জানাতে পারেন যে, আপনি সম্পূর্ণরূপে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের উপর নির্ভরশীল এবং এই ডকুমেন্ট ছাড়াই এপ্লিকেশন সাবমিট করা সম্ভব কিনা। ওরা উত্তর দিতে পারে এভাবে – যদি তুমি ডকুমেন্ট সরবরাহ করতে পারো, তাহলে বেস্ট। কিন্তু একান্তই যদি না পারো, তাহলে একটা ডকুমেন্ট আপলোড করো যেখানে লেখা থাকবে যে, তুমি পরবর্তীতে এগুলো সরবরাহ করবে।” তাইলে আর কী! সুন্দর করে এগুলো লিখে পিডিএফ বানিয়ে আপলোড করে দেবেন!

Documents Upload

এখানে আপনার সিভি আপলোড করতে হবে। কোথাও কোথাও writing sample চায়, সেক্ষেত্রে আপনার যদি কোনো পাবলিকেশন (জার্নাল আর্টিক্যাল বা কনফারেন্স প্রসিডিংস) থাকে, সেটাও আপলোড করতে হবে। SOP বা Statement of Purpose এর pdf আপলোড করতে হবে।

CV বা Resume সাজাতে হলে দেখতে পারেন এখানে, Resume format
Statement of Purpose কী, কীভাবে লিখতে হয়, দেখতে পারেন এখানে, All About SOP

শপথবাক্য

সাবমিশনের আগে একটা অপশন আসবে যেখান থেকে আপনি আপনার সম্পূর্ণ এপ্লিকেশন একটা পিডিএফ ফাইল হিসেবে ডাউনলোড করতে পারবেন। এটা ডাউনলোড করা খুবই জরুরী কারণ ফিল-আপ করার সময় একেকটা সেকশনে যাওয়া-আসা করতে গিয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সব তথ্য যদি একসাথে দেখতে পাওয়া যায়, কোনো সেকশনে ভুল হয়ে থাকলে সেটা ধরা পড়বে। একবার সাবমিট করে দিলে অনলাইন এপ্লিকেশন আর রিভাইজ করা যায় না। তখন কোনো তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন পড়লে যোগাযোগ করতে হবে আপনার আকাঙক্ষিত ডিপার্টমেন্টের সাথে।

সব রিভিউ করার পর আপনাকে একটা চেক বক্সে ক্লিক করতে হবে যেখানে লেখা থাকবে, আপনি এতক্ষণ যা যা তথ্য দিয়েছেন, সবগুলোই সত্য। এরপরে একটা নির্দিষ্ট ফি দেয়ার মাধ্যমে এপ্লিকেশন জমা দিতে হবে। ফি দেয়ার জন্য ক্রেডিট কার্ড লাগবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। কীভাবে ক্রেডিট কার্ড ম্যানেজ করবেন, দেখুন এখানে, Credit Card Aid

শুভ কামনা রইলো সবার জন্য!

Advertisements
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s